সব সরকারি প্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত হবে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে: পরিবেশ উপদেষ্টা


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৮/১০/২০২৫, ৬:১৯ অপরাহ্ণ /
সব সরকারি প্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত হবে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে: পরিবেশ উপদেষ্টা

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত হতে হবে। এতে পুরো জাতির জন্য একটি উদাহরণ তৈরি হবে।

শনিবার (তারিখ) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক সম্মেলন রোড টু কপ-৩০: হাউ ক্যান ন্যাশনাল ইন্টারেস্টস বি অ্যালাইন্ড উইথ গ্লোবাল ক্লাইমেট গোলস’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ বছর সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল  ‘এ ওয়ার্ল্ড বিয়ন্ড ক্রাইসিস: ক্লাইমেট সলিউশনস দ্যাট ওয়ার্ক’।

তিনি বলেন, “নির্গমন কমানো মানে শুধু উৎপাদন নয়, দায়িত্বশীল ভোগও নিশ্চিত করা।” টেকসই ভোগ ও উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে তিনি সব খাতে পরিবেশবান্ধব কর্মকৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবুজ অফিস ভবন নির্মাণ করছে এবং স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় জ্বালানি দক্ষ পরিবেশবান্ধব ভবনের মডেল তৈরি করছে। তবে জলবায়ু অর্থায়নে দ্বৈত হিসাব ও দুর্বল বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা আস্থার ঘাটতি তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় নবগঠিত বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)-এর কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, চারটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়েছে, যেখানে সিভিল সোসাইটি ও একাডেমিয়ার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দিতে পারেন।

ইটভাটার পরিবেশগত ক্ষতির প্রসঙ্গে তিনি বিকল্প নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের আহ্বান জানান। এতে কার্বন নিঃসরণ কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং পাহাড় কাটার প্রবণতা হ্রাস পাবে। তিনি উর্বর মাটির পরিবর্তে নদী খননের পলি ব্যবহার করে ইট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অভিযোজন পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “উপকূলীয় বনায়ন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও স্বল্পব্যয়ী লবণাক্ততা অপসারণ প্রযুক্তি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের সহনশীলতা বাড়াতে অত্যন্ত জরুরি।” তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশে স্থানীয় সমাধান বাস্তবায়নে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও বাড়াতে হবে।

সিপিডি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য খুশি কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনায় অংশ নেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ-এর উপদেষ্টা ড. আইনুন নিশাত, ইআরডি উপসচিব ড. শাহ আব্দুল সাদী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক, জার্মান দূতাবাসের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী উলরিশ ক্লেপম্যান, বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন সুলতানা লিরা এবং এডিবি’র সিনিয়র ক্লাইমেট চেঞ্জ কর্মকর্তা মৌসুমি পারভীন।