বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলীর বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির অভিযোগ


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৩/০১/২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ /
বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলীর বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির অভিযোগ




জলঢাকা, নীলফামারী সংবাদদাতাঃ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ আলীর বিরুদ্ধে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র জলঢাকা শাখায় বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ খেলাপির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকঋণ খেলাপি থাকা অবস্থাতেই তিনি নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র এবং হলফনামা দাখিল করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জলঢাকা উপজেলার চেংমারি বড়ঘাট এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব সৈয়দ আলীর মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইসলামি ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো, ‘মুক্তা হিমাগার প্রাইভেট লিমিটেড’ প্রায় ১২ কোটি টাকা ‘এস আলী অটো রাইস মিল’ প্রায় ১৭ কোটি টাকা ও অন্যান্য ৬ কোটি মিলিয়ে ৩৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ সুবিধা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ব্যাংকিং সূত্রের দাবি, ব্যবসায়িক লেনদেনে তিনি এর আগে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যাংক সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন। পরিশোধ ব্যাহত হওয়ায় তিনি ২০২৪ সালে ডিফল্টার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০৬ কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা হয়।

আবারও ডিফল্ট তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, পুনঃতফসিলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে তিনি পুনরায় ৩৫ কোটি টাকা ডিফল্ট ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হন।

নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য প্রার্থীকে ব্যাংক দায়দায়িত্ব, দেনা ও দেনাদারিসহ সব আর্থিক তথ্য সুস্পষ্টভাবে হলফনামায় উল্লেখের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সৈয়দ আলী তাঁর খেলাপি ঋণকে ‘পরিশোধিত’ হিসেবে প্রদর্শন করে মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র জলঢাকা শাখার ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের শাখা কর্তৃক বর্তমানে কোনো ডিপ হোল্ডার নেই।” তবে ডিফল্ট ও তফসিল সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিষয়টি জানতে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মনোনয়ন দাখিলের সময় যদি কোনো প্রার্থী সক্রিয় ডিফল্টার হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকেন, তবে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে গেলে আইনি প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।