
রাষ্ট্রের কথা ডেস্কঃ
অন্তর্বতীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তহিদ হাসন বলেছেন, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠাতে অন্যান্য দেশের তুলনায় ৫-৭ গুণ বেশি খরচ হয়, যা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার কারণে দেশের মানুষের প্রকৃত জনসম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বর্তমান শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত ছয় দশকে বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে। এখন গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী নারী। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না এই মন্তব্য করে তিনি শিক্ষাখাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মান উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষাখাতের জন্য মোট বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। বাজেট বাড়ানো ছাড়া মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।”
তহিদ হাসন জানান, শিক্ষকবৃন্দের বেতন-ভাতা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাশ করানোর প্রবণতা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে সরকার মানোন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নত না হওয়ায় বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দক্ষতার ঘাটতির কারণে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা ৭৫ শতাংশ কম বেতন পান এবং সহজেই প্রতারণার শিকার হন।
নিজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৬৩ সালে তার বাবার সরকারি চাকরির কারণে তিনি মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। তখন বিদ্যালয়টি টিনের ঝুপড়ি ছিল এবং ছাদের ফাঁক দিয়ে কুকুর ও গবাদি পশু প্রবেশ করত। তবুও শিক্ষার মান ছিল অত্যন্ত ভালো, যা আজও তার মনে অম্লান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহম্মদ নায়িরুজ্জামান, পুলিশ সুপার শখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম), ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তনিমা জামান , মাগুড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আপনার মতামত লিখুন :