অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: স্থিতিশীল অর্থনীতি, প্রশ্নবিদ্ধ বিচার ও মব ভায়োলেন্সে সমালোচনা


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৮/০৮/২০২৫, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ /
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: স্থিতিশীল অর্থনীতি, প্রশ্নবিদ্ধ বিচার ও মব ভায়োলেন্সে সমালোচনা
5

অনলাইন ডেস্ক

গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরের পারফরম্যান্স নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টার প্রশংসা পাওয়া গেলেও বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের ঘাটতি, আইনের শাসন এবং মব ভায়োলেন্স মোকাবিলায় দুর্বলতা নিয়ে উঠেছে ব্যাপক সমালোচনা।

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা: বড় সাফল্য

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রার মান রক্ষা, সুদের হার স্থিতিশীল রাখা ও বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

ইতিবাচক দিক:

রেমিটেন্স বৃদ্ধি, রফতানি অব্যাহত, আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক ভারসাম্য রক্ষা, পুরনো বিদেশি ঋণ পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ টিকে আছে।

সীমাবদ্ধতা:

ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ স্থবির, কর্মসংস্থানে অগ্রগতি নেই, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে দুর্বল বাস্তবায়ন, মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতিকাঠামো অনুপস্থিত।

দেবপ্রিয় বলেন, “একদিকে কিছু অগ্রগতি হলেও, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। আগের তুলনায় কিছু উন্নতি হলেও এটি একটি মিশ্র চিত্র।”

বিচারব্যবস্থা ও সংস্কার: অগ্রগতির ঘাটতি

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কারে সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে।

তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেন:

ঢালাও মামলা ও গ্রেপ্তার বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, মামলা, জামিন ও গ্রেফতারে দুর্নীতির অভিযোগ,  গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি, প্রশাসনিক সংস্কারে মৌলিক বিষয় বাদ পড়ে গেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পাঁচটি কমিশনের আশু করণীয় প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরও বাস্তবে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে—তা অনুপস্থিত। সংস্কার কি টয়লেট পরিষ্কার রাখায় সীমাবদ্ধ থাকবে?”

মব ভায়োলেন্স ও আইনশৃঙ্খলা: সরকারের চ্যালেঞ্জ

গত এক বছরে সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যু ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীনের মতে, “সরকার কার্যত মবকে দমন না করে বরং অনেক ক্ষেত্রে বৈধতা দিয়েছে বলেই মনে হয়।”

সরকার পক্ষের দাবি:

মব ভায়োলেন্সকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি, সেনাবাহিনীকে মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে,  আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চেষ্টার ঘাটতি নেই।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচেষ্টা পর্যাপ্ত নয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল থাকায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হচ্ছে।

সরকারের মূল দায়িত্ব ছিল:

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কার, জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।

নির্বাচন নিয়ে একটি রূপরেখা দেওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত গ্রহণযোগ্যতার সংকট কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা

ক্ষেত্র সাফল্য সীমাবদ্ধতা
অর্থনীতি রেমিটেন্স, রিজার্ভ স্থিতিশীল ব্যক্তি খাত বিনিয়োগ স্থবির
বিচার বিচার প্রক্রিয়া চলমান মামলা বাণিজ্য, ঢালাও গ্রেফতার
সংস্কার কমিশন গঠন সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি
আইনশৃঙ্খলা সেনাবাহিনী মোতায়েন মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণহীন
নির্বাচন রূপরেখা প্রকাশ গ্রহণযোগ্যতা সংকট