জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করাই দারিদ্র্য বিমোচনের মূল চাবিকাঠি


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৬/১২/২০২৫, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ /
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করাই দারিদ্র্য বিমোচনের মূল চাবিকাঠি
108

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

আমাদের দেশে বিনামূল্যে ভোকেশনালের মতো প্রশিক্ষণ দিতে পারলে নারী ও প্রবাসীরা বেশি দক্ষ হতে পারবে। শুধু সহযোগীতা নির্ভর জীবন নয়, আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। তাহলেই কেবল দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সোশ্যাল অ্যাজেন্সি ফর ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড এডভান্সমেন্ট ইন বাংলাদেশের (ছওয়াব) সুধী সমাবেশে এসব কথা জানান বক্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ বিভাগের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, আমাদের দেশে বিনামূল্যে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ বেশি দেয়া জরুরি। বিশেষ করে নারী এবং যারা বিদেশে যেতে আগ্রহী তাদেরকে। প্রবাসীরা দক্ষ হলে দেশে বেশি রেমিট্যান্স আসবে। তাই সবাই এগিয়ে এলে দেশকে এগিয়ে ও পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে যাকাত এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। পশ্চিমাদের ধারণাকে প্রধান্য দেয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা হারাচ্ছি। এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। নিরাপত্তা থাকলে নারীরা চাকরি করতে পারবে আবার বাচ্চাও পালন করতে পারবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন বলেন, শুধু সহযোগিতা নির্ভর জীবন নয়, আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। তাহলেই কেবল দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। এক্ষেত্রে ছওয়াব বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরিতে ভুমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি ছওয়াবের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাবেক সচিব ও চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, আমরা দারিদ্র্য পীড়িত দেশ, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং অনুদানের মাধ্যমে আমরা দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে দরিদ্রের অবস্থা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা সম্ভব। আমাদের ঘরের পাশে থাকা মানেই প্রতিবেশী নয়, চলার পথে পাশে থাকা প্রত্যেকেই আমাদের প্রতিবেশী। অসহায়ের পাশের থাকার জন্য যাকাতের ভূমিকা বিশেষভাবে কার্যকর। এর মাধ্যমে দুস্থদের পাশাপাশি দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা না থাকার কারণে সরকারি ফান্ডে যাকাতের টাকা দিচ্ছে না। সরকার যদি যাকাতের টাকার ওপর করে বন্ধ করে দেয় তাহলে অনেকেই যাকাত দিতে উৎসাহী হবে।

ছওয়াবের চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুজ্জামান বলেন, ছওয়াব ১৯৯৫ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে দেশব্যাপী মানবতার কল্যাণে নানাবিধ উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। ছওয়াব মানবিক কাজের অংশ হিসেবে সারাদেশে শিক্ষা, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শরণার্থী পুনর্বাসন, যাকাত ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র বিমোচন, স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন, জরুরি ত্রাণ সহায়তা, সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ছওয়াবের উন্নয়নমূলক কাজের বড় অংশীজন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুধীজনের ঐকান্তিক সহযোগিতায় স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খলভাবে তাদের যাবতীয় কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা, ইনসাফ বারাকা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা: রুহুল আমিন, এটিএন বাংলা টেলিভিশনের ইসলামিক ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর আ ন ম রশীদ আহমাদ মাদানি, ছওয়াবের ডিরেক্টর মোহাম্মদ আফতাবুজ্জামান, জেনারেল ম্যানেজার লোকমান হোসাইনসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা।