শেখ পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: অর্থপাচারে ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২৫/০৯/২০২৫, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ /
শেখ পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: অর্থপাচারে ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন
62

অনলাইন ডেস্ক:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণে অনিয়ম, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। সরকার গঠিত ১১টি বিশেষ তদন্ত দল ইতোমধ্যেই তাদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ পরিবার ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পাচার করা অর্থে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার ২৬০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, নগদ অর্থ ও শেয়ার জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর যৌথ টিম। এ কার্যক্রমের সমন্বয় করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কক্ষে চলছে সব নথি তৈরির কাজ।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে যুক্ত হয়েছে চারটি প্রভাবশালী সংস্থা— দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (STAR), ইন্টারন্যাশনাল এন্টি-করাপশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (IACCC), যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (ICAR)।

অভিযুক্ত শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে- আরামিট গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও সামিট গ্রুপ। এসব গোষ্ঠীর পাশাপাশি তাদের মালিক ও প্রধান ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পদও তদন্তের আওতায় এসেছে।

বিএফআইইউর তথ্যমতে, ১,৫৭৩টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১,৬৮০ কোটি টাকা ও ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থগিত আছে। পাশাপাশি ১৮৮টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অর্থ ও শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে।

দেশে জব্দকৃত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ৯,৯৯৯ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৩৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিদেশে জব্দ করা সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ জব্দ করেছে, যা দেশের ইতিহাসে অর্থপাচার ও দুর্নীতির সবচেয়ে ভয়াবহ নজির হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রের অর্থ লুট করে যারা বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব সম্পদ পুনরুদ্ধার করে জাতীয় অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা হবে। কোনো দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারী ছাড় পাবে না-এমন অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছে সরকার।