যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করছে ইরান


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৫/০৬/২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ /
যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করছে ইরান



ক্রীড়া ডেস্কঃ

বিশ্বকাপের মাঠে পা রাখার আগেই যেন সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে ইরান। যুদ্ধ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন, ভিসা জটিলতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ঘূর্ণাবর্ত পেরিয়ে অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জি’-এর প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। তবে ম্যাচের আগের আলোচনায় ফুটবলের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে যুদ্ধ ও রাজনীতির প্রসঙ্গ।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে Amir Ghalenoei বলেন, “আমরা এখানে ভালো ফুটবল খেলতে এসেছি। মাঠের বাইরের কোনো বিতর্কে আমাদের মনোযোগ নেই। আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। ফুটবল আর রাজনীতি এক নয়।”

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়েছে ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত অনুশীলন ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিতে বাধ্য হয় দলটি। এমনকি ইরানি প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি।

তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কিছুটা স্বস্তিও এসেছে। বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম ম্যাচের মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলমান সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে।

তবুও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ চলাকালে ইরানের কট্টরপন্থি সরকারের বিরোধী প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভের ঘোষণা রয়েছে। সরকারবিরোধী ব্যানার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

এসব বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ কোচ গালেনোয়ি। তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সমস্যা আছে। সেগুলোর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।”

এ কারণে এবারের বিশ্বকাপ ইরানের জন্য শুধুই একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়। এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতীকও বটে। রাজনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার ক্ষত বুকে নিয়েই আজ সবুজ ঘাসের মঞ্চে নামবে তারা।

প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড হলেও, ইরানের সবচেয়ে বড় লড়াই যেন মাঠের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয় বরং সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতা ও সংকটকে পেছনে ফেলে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করার লড়াই।