জলঢাকায় এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন শিক্ষক অনুপস্থিত, জানেন না শিক্ষা অফিসার


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১১/০৮/২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ /
জলঢাকায় এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন শিক্ষক অনুপস্থিত, জানেন না শিক্ষা অফিসার




মাইদুল ইসলাম, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

নীলফামারী জলঢাকায় পারিবারিক মামলা জটিলতার কারণে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও জানেন না মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। তবে প্রধান শিক্ষক ছুটির কথা স্বীকার করলেও ওই তিন শিক্ষকের লিখিত ছুটির আবেদন দেখাতে পারেনি। ঘটনাটি উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবুনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের।

সরজমিনে (১১ আগস্ট) মঙ্গলবার দুপুরে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, ৯জন শিক্ষকের মধ্যে চার শিক্ষক প্রতিষ্ঠান রয়েছেন। জানতে চাইলে বিএসসি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরিক্ষার রেজাল্টের জন্য উপজেলা গেছে। এ সময় তিনি জানায়, বিজ্ঞান স্যার আব্দুল আজিজ, কৃষি স্যার কামরুজ্জামান ও অফিস সহকারী আব্দুস সালাম পারিবারিক মামলা জটিলতা থাকায় নীলফামারী গেছেন।

ছুটি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে বিএসসি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, এ সব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানেন।

বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষক এসমাঈল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হ্যাঁ ওই তিন শিক্ষক মামলার তারিখ থাকায় ছুটি নিয়েছে। মৌখিক ছুটি না লিখিত আবেদনের ছুটি জানাতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, মৌখিক কোন ছুটি হয় নাকি।

এ সময় স্কুল ছুটির লিখিত আবেদনটি দেখতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, মাধ্যমিক স্যারকে ছুটির ব্যাপারে বলেছি। বিএসসি স্যারকে বলে দিচ্ছি আবেদন দেখার জন্য। পরে বিএসসি স্যার রফিকুল ইসলাম জানান, অফিসে ওই তিন শিক্ষকের কোন লিখিত আবেদন নেই। প্রধান শিক্ষক স্যারের কাছে আছে।

অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিনজন শিক্ষক পারিবারিক মামলা জটিলতায় নামমাত্র ছুটি নিয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে নীলফামারী যান। প্রতি মাসে এমনটি হয়ে আসছে ২/৩ বার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, আমাদের এলাকায় একমাত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এটিই। শিক্ষকদের খামখেয়ালিপনা মনোভাব ও অব্যবস্থাপনার জন্য শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অতিনগন্য। শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকলে ক্লাশ করাবে কে..! এ জন্য শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি কম।

স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, এবারের এসএসসি পরিক্ষায় এ বালিকা বিদ্যালয়টি থেকে ৪৭ জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে সেখানে মাত্র ২৫জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এতেই বুঝেন এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কি অবস্থা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুজ্জামান বলেন, ওই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ছুটির ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেনি বা এ বিষয়ে আমি কোনকিছু জানি না। একই দিন তিন শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়টি দুঃখজনক। দেখি আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতেছি।