
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পাওয়া নিয়ে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে চেয়ারম্যানের পদে পুনর্বহাল হতে আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল। তবে তার আবেদনে সব মামলার প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা হয়নি এমন অভিযোগ তুলে তাকে দায়িত্বে পুনর্বহাল না করার দাবি জানিয়েছেন বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আবু মুসা লালখা।
এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আবু মুসা লালখা।
অভিযোগপত্রে আবু মুসা লালখা উল্লেখ করেন, তিনি ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য এবং প্যানেল চেয়ারম্যান। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের ১৫ জুলাই থেকে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম মুকুলের বিরুদ্ধে ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের জিআর নং-২৬৫/২০২৪, ৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের জিআর নং-৩২০/২০২৪ এবং ২১ জুন ২০২৫ তারিখের জিআর নং-১২৩/২০২৫সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় ইউনিয়নে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের অনুমোদনে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আবু মুসা লালখার ওপর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আদালতের আদেশে সাইফুল ইসলাম মুকুল সাময়িকভাবে দায়িত্বে ফিরলেও ২০২৬ সালের ২১ জুন জলঢাকা থানা পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে নীলফামারী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের লিখিত আদেশে পুনরায় আবু মুসা লালখাকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের বৈধতা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তিনটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর সাইফুল ইসলাম মুকুল পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন।
তবে ওই আবেদন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন আবু মুসা লালখা। তার অভিযোগ, আবেদনপত্রের সঙ্গে জিআর নং-২৬৫/২০২৪ ও জিআর নং-১২৩/২০২৫ মামলার জামিনের কপি সংযুক্ত করা হলেও জিআর নং-৩২০/২০২৪ মামলার জামিনের অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়নি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় নতুন করে আইনি জটিলতা বা গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন অবস্থায় তাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবু মুসা লালখা বলেন, “চেয়ারম্যান তিনটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাখিল করা আবেদনপত্রে সব মামলার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়নি বলে আমার জানা আছে। প্রশাসন যদি পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সব মামলার নথি, আদালতের আদেশ ও আইনগত অবস্থান যাচাই করে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম মুকুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে চলমান এই বিতর্কে এখন উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের আদেশ, প্রযোজ্য আইন এবং দাখিল করা নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেই এ বিষয়ে প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :