
নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলা সদরের মৌন জেনারেল হাসপাতালে সিজার ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। হাসপাতালটিতে প্রতি মাসেই বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক প্রসব হচ্ছে, যা একদিকে যেমন অর্থ সাশ্রয় করছে, অন্যদিকে প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যও রক্ষা পাচ্ছে।
সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম হাজারিহাট গ্রামের কৃষক রনি আহমেদের স্ত্রী খাদিজা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে গত ৩০ জুলাই মৌন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিঘাত পারভীনের তত্ত্বাবধানে বিনা সিজারে তিনি যমজ পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও সন্তানদ্বয় সুস্থ রয়েছেন।
শিশুর পিতা রনি আহমেদ বলেন, “আমরা জানি সাধারণত বেসরকারি হাসপাতালে গেলেই সিজার করার চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু মৌন জেনারেল ব্যতিক্রম। তারা চাইলে সিজার করতে পারত, কিন্তু তা না করে আমার স্ত্রীর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করিয়েছে। এতে আমার মতো গরিব মানুষের উপকার হয়েছে। সিজারে যে টাকা লাগত, সেই টাকা দিয়ে এখন আমার স্ত্রীকে ভালো খাবার দিতে পারব।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৌন জেনারেল হাসপাতালে প্রতিমাসে ৭ থেকে ৮টি স্বাভাবিক প্রসব হয়ে থাকে। এতে উপকৃত হচ্ছেন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো। রোগীরা হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ডা. নিঘাত পারভীন বলেন, “আমি গর্ভবতী মাকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি দেখি মা ও শিশুর অবস্থা ভালো, তাহলে স্বাভাবিক প্রসবের পরামর্শ দিই। এতে দরিদ্র পরিবার উপকৃত হয় এবং মায়ের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।”
হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহফুজার রহমান শাহ্ বলেন, “আমরা এই পেশায় এসেছি সেবার মনোভাব নিয়ে। যেখানে খুব প্রয়োজন না হয়, সেখানে আমরা সিজার করি না। মানুষকে বিপদে ফেলে কৃত্রিম উপায়ে টাকা আয় করাকে আমরা সমর্থন করি না।”
আপনার মতামত লিখুন :