লাক্স সুন্দরী থেকে ইউএনও সোহানিয়ার যোগদানের পর বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের চিত্র


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২৭/০২/২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ /
লাক্স সুন্দরী থেকে ইউএনও সোহানিয়ার যোগদানের পর বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের চিত্র

মো. রমজান আলী>>

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া। ২০১০ সালে চ্যানেল আই লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা দশে জায়গা করা এই লাক্স সুন্দরী এবার প্রশাসনিক দায়িত্বে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রের কথা প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা ও সংকটের খোঁজখবর নিচ্ছেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় প্রশাসনিক সেবা সহজ করা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি এবং নাগরিক সেবাকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন।

তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হয়েছেন। ২০১৯ সালের ২০ মার্চ তাকে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে সমন্বয় ও সংসদ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর সোহানিয়া উপজেলা জুড়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ, বালু পাচার রোধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর হস্তক্ষেপ করেছেন। অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদান এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা সরাসরি তার কক্ষে গিয়ে সমস্যা জানানোর পর তা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, ইউএনও সোহানিয়ার যোগদানের পর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন উদ্যম দেখা দিয়েছে। তিনি যোগদানের পরই বাল্যবিবাহে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সকল ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি বিধবা, দীর্ঘদিন ধরে ভাতা পাইনি। নতুন ইউএনও যোগদানের পর তিনি আমার ভাতার ব্যবস্থা করেছেন।”

রনচন্ডী ইউনিয়নের জিয়ারুল ইসলাম বলেন, “নতুন ইউএনও আসার পর আমাদের এলাকায় কোনো বাল্যবিবাহ হয়নি। একটি বাল্যবিবাহের খবর তিনি রাত তিনটার দিকে এসে বন্ধ করেছেন।”

উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর আব্দুর রশিদ শাহ্ বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে ইউএনও যথেষ্ট ভালো ভূমিকা রেখেছেন। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ইউএনও-এর দক্ষতায় এবার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। অন্যান্য কাজে তার আগ্রহও পরিলক্ষিত হয়েছে।”

উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমরা একজন সৎ ব্যক্তিকে ইউএনও হিসেবে পেয়েছি। তিনি যোগদানের পর বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বন্ধ করেছেন এবং বাজার মনিটরিংসহ নানা ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছেন।”

ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি উপজেলার নানামুখী সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। বাল্যবিবাহ, বালু পাচার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য মডেল উপজেলা গড়া, যেখানে কোনো অনিয়ম বা অন্যায় চলবে না। আশা করি আমার এ যাত্রায় সকলে সহযোগিতা করবেন।”