রামগঞ্জ ট্রাজেডি ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যানের বিএনপিতে যোগদান


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২০/০১/২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ /
রামগঞ্জ ট্রাজেডি ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যানের বিএনপিতে যোগদান
40

নীলফামারী সংবাদদাতাঃ

নীলফামারীতে আলোচিত রামগঞ্জ ট্রাজেডি হত্যা মামলা ও জুলাই মাসে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

বিএনপিতে যোগদানকারী ওই চেয়ারম্যান হলেন সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি হেদায়েত আলী শাহ ফকির। এ সময় তার সঙ্গে ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের আরও ৯ জন সদস্যও বিএনপিতে যোগ দেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী জেলা শহরের পৌর বাজারে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নীলফামারী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন তারা।

জানা গেছে, হেদায়েত আলী শাহ ফকির রামগঞ্জ ট্রাজেডি নামে পরিচিত বিএনপি নেতা হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি (মামলা নং– জিআর ৩২০/২৪, সদর থানা)। এছাড়া গত ৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও সহিংসতা মামলাতেও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি (মামলা নং– জিআর ২৬৯/২৪, সদর থানা)। একই সময়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মামলাতেও (মামলা নং– জিআর ২৬৭/২৪, সদর থানা) তার নাম রয়েছে। সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে।

বিএনপিতে যোগদান শেষে বক্তব্যে হেদায়েত আলী শাহ ফকির বলেন, “প্রকৌশলী তুহিনের মতো একজন যোগ্য ও সৎ প্রার্থী পেয়ে আমরা গর্বিত। নীলফামারীর সার্বিক উন্নয়নে তার কোনো বিকল্প নেই। তার নেতৃত্বে এ অঞ্চলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ ও মোস্তফা হক প্রধান বাচ্চু, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক প্রবীর গুহ রিন্টুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, “নীলফামারীকে নিরক্ষরমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষানগরী ও স্বাস্থ্যনগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শুধু ইপিজেডেই নয়, আরও এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে নীলফামারীর উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নীলফামারী জেলাকে রংপুর বিভাগের মধ্যে একটি আদর্শ জেলায় রূপান্তর করা হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে যোগদানকারী নেতাকর্মীদের মিষ্টিমুখ করান বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী তুহিন।