বৃষ্টিতে গর্ত, শুকনোতে ধুলো – তুহিন বাঁধ সড়কের অবহেলায় স্থবির জীবন


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৪/০৮/২০২৫, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ /
বৃষ্টিতে গর্ত, শুকনোতে ধুলো – তুহিন বাঁধ সড়কের অবহেলায় স্থবির জীবন
4

নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ডালিয়া প্রধান খাল থেকে পূর্ব বাইশপুকুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ‘তুহিন বাঁধ’ সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে কয়েকটি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে তুলেছে।

এই সড়কটি বাইশপুকুর ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাইশপুকুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করে। ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডাউয়াবাড়ি এবং আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন।

টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও মাটি ধসে খাল-বিলে মিশে গেছে, আবার কোথাও পুরোনো হেরিংবন্ডের ইট উঠে গিয়ে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলার ঝাঁপটায় পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

অটোভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট-বড় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। এতে জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিকল্প পথে যেতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বাইশপুকুরের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার হয়নি। বর্ষায় পানি জমে গর্ত হয়, শুষ্কে ধুলায় পথ চলা কষ্টকর হয়ে ওঠে। জনপ্রতিনিধিদের বলেও কোনো লাভ হয়নি।”

ভেন্ডাবাড়ির প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন সড়কটি নির্মাণ করেছিলেন। “দীর্ঘ অবহেলায় এখন হেঁটে পার হওয়াও দুঃসাধ্য,”- আক্ষেপ করে বলেন তিনি।

খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান বলেন, “বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে কিছু অংশ মেরামতের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”

সড়কের করুণ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভুগছে স্কুলগামী শিশুরা। অনেকেই ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয়ে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ডালিয়া প্রধান খাল থেকে পূর্ব বাইশপুকুর পর্যন্ত তুহিন বাঁধ সড়কটি সংস্কার হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি ফিরবে, কৃষি উৎপাদন ও রোগী পরিবহন সহজ হবে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।