বিশ্বের অস্থিরতায় শান্তির বার্তা, লালমনিরহাটের মসজিদ ও মন্দির


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০২/১০/২০২৫, ২:০৯ অপরাহ্ণ /
বিশ্বের অস্থিরতায় শান্তির বার্তা, লালমনিরহাটের মসজিদ ও মন্দির
4

লালমনিরহাট সংবাদদাতা:

একদিকে উলুধ্বনি, অন্যদিকে জিকির; একপাশে ধূপকাঠির ঘ্রাণ, অন্যপাশে আতরের সুরভি। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকায়, যেখানে একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির। শত বছর ধরে এ দুটি উপাসনালয় ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কালী মন্দির। পরবর্তীতে এর গা ঘেঁষে মুসলিম ব্যবসায়ীরা একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেন, যা পরে রূপ নেয় পুরান বাজার জামে মসজিদে। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব ছাড়াই উভয় ধর্মাবলম্বী এখানে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন।

সম্প্রীতির মূল রহস্য হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমন্বয়। শারদীয় দুর্গোৎসব কিংবা অন্য ধর্মীয় আয়োজনের আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বৈঠকে বসে। নামাজ বা আযানের সময় পূজার ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখা হয়, আর নামাজ শেষে পূজা-অর্চনা আবার শুরু হয়। এই বোঝাপড়ার কারণে এ স্থানটিতে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মো. আলাউদ্দিন ও কালীবাড়ী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী শংকর চক্রবর্তী উভয়েই এই ঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। শ্রী শংকর চক্রবর্তী বলেন, “এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট ছিল, আছে, আর ভবিষ্যতেও থাকবে। বিশ্বজুড়ে সংঘাত হলেও এখানকার সম্প্রীতি থাকবে অবিচল।”

একই মাঠে উভয় ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার রয়েছে। পূজার সময় মেলা বসে, আবার মুসল্লিদের জানাজাও হয়। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার এই সহাবস্থানকে “ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরল উদাহরণ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে। এমনকি কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও পরিদর্শন করেছেন এই প্রাঙ্গণ। সহিংসতায় ভরা বিশ্বের মধ্যে লালমনিরহাটের এই মসজিদ-মন্দির যেন শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এটি কেবল উপাসনার স্থান নয়, বরং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সহাবস্থানের জীবন্ত পাঠশালা।