
নেত্রকোনা সংবাদদাতাঃ
নেত্রকোনার আটপাড়া ও পূর্বধলা উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ও সকালবেলায় দুই উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে আটপাড়া উপজেলার মাটিকাটা গ্রামে পাকা সড়ক পার হওয়ার সময় সাফায়েত (১০) নামে এক শিশুকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত সাফায়েত মাটিকাটা গ্রামের রাকিব মিয়ার ছেলে।
দুর্ঘটনায় জড়িত সিএনজি চালক সজীব (৩০) মদন উপজেলার শিবপাশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখেন। তারা জানান, এমন দুর্ঘটনা রোধে সড়কে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
আটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জোবায়দুল আলম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবার এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে একই দিন পূর্বধলা উপজেলার ছোছাউড়া এলাকায় ইটবোঝাই হ্যান্ডট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সজুদুল হক (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ছোছাউড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলা রেলস্টেশন থেকে ইটবোঝাই একটি নাম্বারবিহীন হ্যান্ডট্রলি ছোছাউড়া এলাকায় আসার সময় বিপরীত দিক থেকে একটি হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই সজুদুল হকের মৃত্যু হয়।
এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা মোফাজ্জল হোসেন (২৮) ও আনাছ (১০) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
দুর্ঘটনার পর হ্যান্ডট্রলির চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ইসলাম ও এসআই আমিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
পূর্বধলা থানার ওসি দিদারুল ইসলাম জানান, হ্যান্ডট্রলি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পরিবার এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :