দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে জামায়াত


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০২/১০/২০২৫, ১০:৩২ অপরাহ্ণ /
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে জামায়াত
3

নিজস্ব সংবাদদাতা:

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ডালিয়া–ডিমলা আঞ্চলিক সড়কের জরাজীর্ণ অংশ স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে এবং গয়াবাড়ি ইউনিয়ন আমীর মাওলানা রেজাউল করিম মুকুলের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শুটিবাড়ি থেকে ডালিয়া পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যানচালক ও সাধারণ যাত্রীরা। গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী ট্রাক, বালু ও পাথরবাহী ট্রলির চলাচলে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়লেও সংস্কারে কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর খালিশা চাপানি ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর ও ডিমলা উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম একই সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হন। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি তোলে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল ইসলাম বলেন, “আমরা বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজ জামায়াতের নেতাকর্মীরা নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করায় অন্তত মানুষের যাতায়াত কিছুটা হলেও সহজ হলো।”

সংস্কার কার্যক্রম উদ্বোধন করে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কেবল রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি জনকল্যাণমূলক ইসলামী আন্দোলন। দীর্ঘদিন সড়কের বেহাল দশায় মানুষ কষ্ট পাচ্ছিল, তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “গত ১৫ বছর আমাদের সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। তবে এখন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”

সংস্কার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন গয়াবাড়ি ইউনিয়ন আমীর রেজাউল করিম মুকুল, যুব বিভাগের সভাপতি আবু তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা সোহানসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ।