ডিমলায় ৭৬ মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন, আলোর ঝলকানিতে শারদীয় দুর্গোৎসব মাতোয়ারা


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২৮/০৯/২০২৫, ৮:১৬ অপরাহ্ণ /
ডিমলায় ৭৬ মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন, আলোর ঝলকানিতে শারদীয় দুর্গোৎসব মাতোয়ারা
5

নিজস্ব সংবাদদাতা:

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উপজেলার ৭৬টি মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে, চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ও রঙের তুলিতে প্রতিটি প্রতিমা জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

আজ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এ মহোৎসব শেষ হবে আগামী ২ অক্টোবর, বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।

প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, একজন শিল্পী গড়ে ৫ থেকে ৬টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেন। প্রতিমা তৈরিতে খরচ হয় ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। মন্দির কর্তৃপক্ষ উপকরণ সরবরাহ করলেও শিল্পীদের সৃজনশীলতাতেই প্রতিটি প্রতিমা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ডিমলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের শুটিবাড়ির হাট এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা যায়। এখানে দুর্গামন্দির, কালীমন্দির, বিষ্ণুমন্দির ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পাশাপাশি অবস্থান করছে। বহু বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন। নামাজ ও আজানের সময় সাময়িকভাবে পূজার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়, যা ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ।

পূজাকালীন নিরাপত্তায় আনসার, পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, “দুর্গাপূজা এখন সার্বজনীন আনন্দ উৎসব। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। প্রতিটি মণ্ডপে বিদ্যুৎ, স্বেচ্ছাসেবক, সিসি ক্যামেরা ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

ডিমলা উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট জানায়, পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় চলছে। নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো চেষ্টা সফল হবে না। সনাতনী ভাইবোনেরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করবেন।”

ডিমলা থানার ওসি ফজলে এলাহী জানান, পূজার নিরাপত্তা তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ৬ জন আনসার ও ৩ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি মোবাইল টিম, ডিবি পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা মাঠে নজরদারি চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাড়ানো হয়েছে তদারকি।

তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে।”

মণ্ডপের আলোর ঝলকানি, শিশুদের উল্লাস আর প্রতিমার শোভা-সব মিলিয়ে ডিমলার দুর্গাপূজা এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক মহোৎসবে রূপ নিয়েছে।