জামায়াত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে রাষ্ট্রের সিস্টেম বদলাতে চায়: ডা. শফিকুর রহমান


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২৭/০১/২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ /
জামায়াত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে রাষ্ট্রের সিস্টেম বদলাতে চায়: ডা. শফিকুর রহমান
72

খোরশেদ আলম, বিশেষ প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা রাষ্ট্রের অসংগতি দূর করে পরিবর্তন চান, রাষ্ট্রের সংস্কার চান এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চান তারা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা আছে, তারাই এই পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেবেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা পরিবর্তন চায় না, যারা আবারও স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চায়, যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করতে আগ্রহী তারাই ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেবে। কারণ তাদের জুলাইয়ের যোদ্ধাদের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা, ভালোবাসা বা দায়বদ্ধতা নেই। তারা এই রাষ্ট্রের নায়ককে আবার শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারী সরকারে রূপ দিতে চায়।

তিনি আরও বলেন, পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের সময়কার মতো এখনও একটি অশুভ চক্র পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ, নেতিবাচক ও মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে আর কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে, নিজের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে শিখেছে। প্রয়োজনে মানুষ আবারও রাস্তায় নামবে, কিন্তু কোনো অশুভ শক্তির হাতে রাষ্ট্রকে তুলে দেবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনগণ অপেক্ষা করবে। ওই দিন ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

তিনি বলেন, জনগণ যদি আমাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে বিজয়ী করে, তবে আমরা এই রাষ্ট্রকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে রূপান্তর করব। সেখানে কোনো ধর্ম-বর্ণের বিভেদ থাকবে না, মানুষে মানুষে বৈষম্য থাকবে না। প্রত্যেককে তার ন্যায্য অধিকার দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

জামায়াত ক্ষমতায় এলে পোশাক স্বাধীনতা থাকবে না এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। যে কেউ শালীনতার সঙ্গে যেকোনো পোশাক পরতে পারবেন। কাউকে জোর করে কোনো পোশাক পরানো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতি নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এর আগে যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে যশোর একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলেও দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এখানে এখনও সিটি করপোরেশন গঠন হয়নি। কৃষিতে বিপ্লব ঘটলেও যশোরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াত ক্ষমতায় এলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা।

সমাবেশ শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান যশোর জেলার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।