অভিযোগের পরও নেই ব্যবস্থা: প্রকৃতি রক্ষায় হাহাকার রাজশাহীবাসীর


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৫/১০/২০২৫, ১০:৩২ অপরাহ্ণ /
অভিযোগের পরও নেই ব্যবস্থা: প্রকৃতি রক্ষায় হাহাকার রাজশাহীবাসীর
55

আবুল হাশেম, রাজশাহী সংবাদদাতা:

রাজশাহীতে চলছে প্রকৃতি ধ্বংসের মহোৎসব। উন্নয়নের নামে শহরের একের পর এক পুকুর ভরাট ও শতবর্ষী গাছ কাটা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাতের আঁধারে চলছে পুকুর ভরাট, কাটা পড়ছে পুরোনো বৃক্ষ অথচ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন, এমনকি জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভিযান শুরু হলেও তা কয়েকদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়, এরপর আবারও নতুনভাবে ভরাটের কাজ শুরু হয়।

রাজশাহীর খুলিপাড়া, আইটি বাগানপাড়া, এবং নগরের অন্যান্য এলাকায় পুকুর ভরাটের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মাঝে জরিমানার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে উদ্ধার হওয়া পুকুরের সংখ্যা অত্যন্ত কম। গত পাঁচ বছরে মাত্র দুটি পুকুর পূর্ণ খনন করা হয়েছে এমন তথ্যই জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ওয়াসা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) ও সার্কিট হাউস এলাকায় তিনটি প্রকল্পে ২,৩২৩টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বহু পুরোনো ও মূল্যবান গাছ কাটা শুরু হয়েছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই গাছগুলো শহরের জীববৈচিত্র্য, ছায়া ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

সম্প্রতি রাজশাহীর এক প্রান্তে প্রাণ কোম্পানি শতবর্ষী গাছ কেটে কারখানা নির্মাণ শুরু করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রশাসন শুধু আশ্বাস দিচ্ছে, বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
শুধু চলতি বছরেই তারা ১৫টিরও বেশি স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনে। কিন্তু ফলাফল “কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।”

‘ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “রাজশাহীর প্রাণ এই পুকুর ও গাছগুলো। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, স্মারকলিপি দিয়েছি, সংবাদ প্রকাশ করেছি—কিন্তু প্রশাসন কেবল কথা বলেই থেমে থাকে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে রাজশাহী আর বাসযোগ্য শহর হিসেবে টিকবে না।”

রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, “আমাদের কার্যক্রম চালাতে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া বড় পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। জনবলও সীমিত। আমরা অভিযান চালিয়েছি, জরিমানা করেছি, কিন্তু ভরাটকারীরা আবারও শুরু করে দেয়। আমরা চেষ্টা করছি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।”

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের পুকুর ভরাট ও গাছ কাটার প্রবণতা রাজশাহীর জলবায়ু, বায়ুমান ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। তারা সতর্ক করেছেন এভাবে চলতে থাকলে রাজশাহী অচিরেই “সবুজ শহর” থেকে “ধুলা শহরে” পরিণত হবে।