শেরপুরে আ. লীগ নেতার জামিনে তোলপাড়, রাস্তায় আন্দোলনকারীরা


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৬/১০/২০২৫, ১০:০৬ অপরাহ্ণ /
শেরপুরে আ. লীগ নেতার জামিনে তোলপাড়, রাস্তায় আন্দোলনকারীরা
33

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর সংবাদদাতা:

শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট চন্দন কুমার পালের জামিন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

অংশগ্রহণকারীরা জেলা জজ, পিপি ও জিপির অপসারণসহ আট দফা দাবি উত্থাপন করেন। তারা অভিযোগ করেন, “চন্দন পালের জামিন ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং এতে আন্দোলনের নিহত ও আহত পরিবারের প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে।”

সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা জজ আদালতের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে “ন্যায়বিচার চাই”, “দোষীদের বিচার চাই” স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা ডিসি গেইট অবরোধ করে টানা তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চালান।

বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবিদাওয়া শুনে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “দাবিগুলো লিখিত আকারে দিলে সরকারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।” তার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

অবরোধ চলাকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফটক বন্ধ থাকায় আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের দপ্তরের কার্যক্রম প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

জানা গেছে, সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এডভোকেট চন্দন কুমার পাল। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতাসহ সাতটি মামলা হয়। একই বছরের ১৬ অক্টোবর ভারতে পালানোর সময় বেনাপোল সীমান্ত থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি উচ্চ আদালত থেকে সব মামলায় জামিন পান। তবে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেরপুর আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি মুক্তি পান।

তার জামিনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে, জামিন প্রক্রিয়ায় জেলা জজ, পিপি ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের প্রভাব ছিল।

অন্যদিকে জেলা পিপি ও পৌর বিএনপি সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগকে “মিথ্যা অপপ্রচার” বলে দাবি করেন। এর প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আজকের এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।