অনিয়মই যেখানে নিয়ম: ডিমলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতির অভাব


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১১/০৯/২০২৫, ১০:২২ অপরাহ্ণ /
অনিয়মই যেখানে নিয়ম: ডিমলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতির অভাব
7

নীলফামারী সংবাদদাতা:

সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ” এই স্লোগান বাস্তবায়নের পরেও মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষাঙ্গনে নিয়মের চেয়ে অনিয়মই প্রাধান্য পাচ্ছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের কাকিনা চাপানি ২নং মিলন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই চিত্র চোখে পড়েছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন—স্বপন কুমার রায়, লাবু ইসলাম, কনিকা রানী রায় ও পারভীন আক্তার। এর মধ্যে কনিকা রানী রায় মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় কার্যত তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার কথা। তবে তাদের উপস্থিতি অনিয়মিত।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটায় সরেজমিনে গেলে দেখা গেছে, পুরো বিদ্যালয় ফাঁকা। ক্লাসরুমে তালা ঝুলছে। কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নেই। সকালবেলায় কিছু ক্লাস হলেও দুপুরের পর বিদ্যালয় কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

অভিভাবক সীমান্ত কুমার রায় বলেন, “আমরা সন্তানদের হাতে খাতা-কলম তুলে দিই পড়াশোনার আশায়। কিন্তু দুপুরের আগেই স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে বাচ্চারা পড়াশোনায় আগ্রহ হারাবে।”

অভিভাবক মতিলাল রায় আরও বলেন, “শিক্ষকরা যদি নিয়মিত ক্লাস না নেন, তাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কিছুই শিখবে না। অথচ তাদের বেতন-ভাতা ঠিকই দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”

স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল মান্নান জানান, “প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার ভিত্তি। এখানে অনিয়ম হলে পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার রায় বলেন, এভাবে স্কুল বন্ধ করে যাওয়া ঠিক হয়নি। এটা আমার ভুল হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল আলম বলেন, “বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে দেওয়া হবে না। শিক্ষকেরা যদি দায়িত্বে অবহেলা করেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় জানান, “বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি একটি গুরুতর বিষয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

অভিভাবকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত পাঠদান পায়। নইলে শিশুদের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অভিভাবকদের আস্থা কমে যাবে।