সুন্দরবন সুরক্ষা ও বনায়নে অবদানের জন্য ‘উপকূলবন্ধু’ মোস্তফা নুরুজ্জামানকে সংবর্ধনা


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২১/০৮/২০২৫, ৪:২১ অপরাহ্ণ /
সুন্দরবন সুরক্ষা ও বনায়নে অবদানের জন্য ‘উপকূলবন্ধু’ মোস্তফা নুরুজ্জামানকে সংবর্ধনা
4

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সুন্দরবন সুরক্ষা ও বনায়নে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুশীলনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামানকে ‘উপকূলবন্ধু’ হিসেবে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন প্রাঙ্গণে বনজীবী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সভাপতি মাহমুদা বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুন। আরো বক্তব্য রাখেন বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সুশীলনের উপ-নির্বাহী প্রধান মো. নাসিরুদ্দিন ফারুক, সাতক্ষীরা পিপলস ফোরামের সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ প্রমুখ।

ইউএনও মোছাঃ রনী খাতুন বলেন, “উপকূলবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি আমাদের মাটি, পানি ও বন রক্ষায়। নারী নেতৃত্ব, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির ঐক্য যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, এ আয়োজন তারই প্রমাণ।”

সংবর্ধনা গ্রহণকালে মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, “উপকূল, বনজীবী ও পরিবেশের স্বার্থে কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য। সুন্দরবনকে রক্ষা করা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা। এই সম্মান আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

অনুষ্ঠান শেষে বনজীবী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাঁকে স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পাশাপাশি সুশীলনের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ করা হয়। পরিশেষে ইউএনও ও উপকূলবন্ধু যৌথভাবে বৃক্ষরোপণ করেন।

মুন্ডা কমিউনিটির ঐতিহ্যবাহী বরণ অনুষ্ঠান এবং সুশীলনের কালচারাল টিমের সচেতনতামূলক নাটিকা পুরো অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য ও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বক্তারা জানান, ১৯৯১ সাল থেকে সুশীলন বনজীবীসহ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ও আইসিটিসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উপকূলীয় এলাকায় সুন্দরবন সংরক্ষণ, বনায়ন এবং বননির্ভর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংস্থার অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।