সন্ধ্যা নামলেই পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে লুটপাট ও মাদকের আসর


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২৮/০২/২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ /
সন্ধ্যা নামলেই পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে লুটপাট ও মাদকের আসর
40

বদরুদ্দোজা প্রধান, পঞ্চগড় সংবাদদাতাঃ

দিনের আলো ফুরাতেই ভিন্ন চিত্র দেখা যায় পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবরস্থান-এ। পবিত্র ও নিরিবিলি এই স্থানটি সন্ধ্যার পর লুটপাট, চাঁদাবাজি ও মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। নিরাপত্তাহীনতায় অনেকেই প্রিয়জনের কবর জিয়ারতে যেতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দাফনের দু এক দিনের মধ্যেই কবরের ওপর দেওয়া প্লাস্টিক ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘেরা খুলে নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, স্থানীয় রুবেল, কালুয়ার ছেলে আলী, আহাত আলীর ছেলে মাসুদ ও মাসুমের নেতৃত্বে একটি চক্র রাতের আধারে এসব সামগ্রী সরিয়ে নেয়। নতুন কবর চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হয় বলেও তাঁদের অভিযোগ।

পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আদম সুফি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তাঁর সহধর্মিণীকে এই কবরস্থানে দাফন করেন। দুদিন পর জিয়ারতে গিয়ে দেখেন কবরের ওপরের প্লাস্টিক নেই, ঘেরার কিছু তার খুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “কেন্দ্রীয় কবরস্থানে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মরদেহের সম্মান কোথায়?”

তিনি দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহলের দাবি জানান।
খায়রুল আলম নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আত্মীয়ের কবরের চারপাশে নেটের ঘেরা দিতে গেলে কয়েকজন মাদকসেবী তাঁর কাছে অর্থ দাবি করে। টাকা না দিলে সমস্যায় পড়তে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, মাগরিবের পর থেকেই কবরস্থানের ভেতরে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। পর্যাপ্ত আলো ও নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই কবর জিয়ারত এড়িয়ে চলছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এমন পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য। পবিত্র এই স্থানের মর্যাদা রক্ষা ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান তারা। সীমানা প্রাচীর মেরামত, স্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ, পর্যাপ্ত লাইটিং ও সিসিটিভি স্থাপনের দাবি এখন জোরালো।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।