জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করবো-বিজিবিতে যোগ দিয়েই বললেন ফেলানীর ছোট ভাই


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৪/০১/২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ /
জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করবো-বিজিবিতে যোগ দিয়েই বললেন ফেলানীর ছোট ভাই
55

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম। জেলার অধিকাংশ এলাকা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা। সেই সীমান্তেই ২০১১ সালে নির্মমভাবে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী খাতুন। প্রায় দেড় দশক পর তার ছোট ভাই আরফান হোসেন দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়ে শপথ নিলেন সীমান্ত রক্ষার।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে শপথগ্রহণ করেন আরফান হোসেন। এদিন বিজিটিসিএন্ডসির ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

কুচকাওয়াজ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আরফান হোসেন বলেন, “২০১১ সালে আমার বয়স তখন মাত্র ৬-৭ বছর। আমার বড় বোন ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই দৃশ্য আজও ভুলতে পারিনি। এরপর থেকেই আমার মা-বাবার ইচ্ছা ছিল-আমি যেন দেশের জন্য কিছু করতে পারি। জীবন দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করবো।”

তিনি আরও জানান, তাদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন। আরফান ২০২২ সালে কুড়িগ্রামের নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০২৪ সালে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে অবশেষে বিজিবির একজন নবীন সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। হত্যার পর তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যা দেশ-বিদেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তার ছোট ভাই আজ দেশের সীমান্তরক্ষায় শপথ নিলেন যা অনেকের কাছেই এক আবেগঘন অধ্যায়।