জাপার লাঙল প্রতীকের প্রার্থী এখন এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৩/১২/২০২৫, ১০:২১ অপরাহ্ণ /
জাপার লাঙল প্রতীকের প্রার্থী এখন এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী
110

বদরুদ্দোজা প্রধান, পঞ্চগড় সংবাদদাতাঃ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পঞ্চগড় জেলা সমন্বয় কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংগঠন। কিন্তু কমিটির তালিকা প্রকাশের পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিস্টের দোসর বলে সমালোচিত জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক নেতাদেরও এই কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের স্বাক্ষরে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে তালিকায় আছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি জাপার জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন এবং ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে লাঙল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এছাড়া কমিটির আরও দুই যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল লতিফ ও মতিয়ার রহমান এর আগেও জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বাড়তে থাকে। জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, নীতি–নৈতিকতার প্রশ্ন নিয়ে যখন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়, তখন ওই দুই দলের সাবেক নেতাদের এনসিপির কমিটিতে যুক্ত করা কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেকও টানা দুইটি স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, জাতীয় পার্টিকে দোসর বলা হলে তাদের সাবেক নেতাদের নিয়েই বা কমিটি গঠনের অর্থ কী? আরেক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, একদিকে বলা হচ্ছে জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়, অন্যদিকে জাপার সাবেক নেতাদের পদ দিয়ে কমিটি গড়া হচ্ছে এটা কেমন নীতি?

এ প্রসঙ্গে আবু সালেক বলেন, এনসিপির নতুন কমিটিতে থাকা তিনজন আগে জাতীয় পার্টিতে ছিলেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং সদর উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী তানবীরুল বারী নয়ন বলেন, তাদের জানানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।