শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামি এখন পৌর প্রশাসক: জনমনে তীব্র ক্ষোভ


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ২৭/১১/২০২৫, ৬:২৭ অপরাহ্ণ /
শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামি এখন পৌর প্রশাসক: জনমনে তীব্র ক্ষোভ
25

অনলাইন ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শিবির কর্মী মামুন হোসেনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ও তৎকালীন চবি ছাত্রলীগ সভাপতি মো. মামুনুল হককে ফেনী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি বুধবার (২৬ নভেম্বর) জারি করা হয়। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রজ্ঞাপনটি ভাইরাল হলে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষাঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় শিবির কর্মী মামুন হোসেনকে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মো. মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয় তার নেতৃত্বেই ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্ট হয়েছিল ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট।

অভিযোগ ছিল, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, হল দখল, অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজি, এমনকি তৎকালীন ভিসির নিয়োগ বাণিজ্যেও প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। বগিভিত্তিক সাতটি সশস্ত্র গ্রুপ পরিচালনার নেতৃত্বও ছিল তার হাতে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডার রবিন, জালাল, রূপম, বোরহান, বায়েজিদ সজল, আরিফুল ইসলাম, মনসুর সিকদার, সৌমেন পালিত ও অমিত কুমারের নামও মামলায় উঠে আসে।

পরে রাজনৈতিক তদবিরে ৩৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। এরপর রাজধানীর রমনা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি), রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার এবং রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, “ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম, এটা সত্য। কিন্তু কারও ক্ষতি করিনি। রাজনীতি ছেড়ে আট বছর ধরে চাকরি করছি।”

আদালত সূত্র অনুযায়ী, এত বড় হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র দুজনকে গ্রেপ্তার করা গেছে। সর্বশেষ ২০ নভেম্বর চবি সহকারী রেজিস্ট্রার ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবুল মনসুর সিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অন্য আসামিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন “একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি কীভাবে পৌরসভার প্রধান প্রশাসক হন?”
এই প্রশ্ন ও ক্ষোভ এখনই থামছে না; বরং আরও বড় আলোচনার জন্ম দিচ্ছে প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।