শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৭/১১/২০২৫, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ /
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড
53

অনলাইন ডেস্ক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলার অপর অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় লঘুদণ্ড হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।

সোমবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়তে গিয়ে আদালত বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত। এর মধ্যে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, আরেকটিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের অপরাধ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তার শাস্তি লঘু করা হয়।

গণহত্যার দায়ে সরকারের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার ঘটনা এটাই প্রথম। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সব প্রধান টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। রাজধানীর বেশ কিছু স্থানে বড় পর্দায়ও সরাসরি দেখানো হয় এ বিচার।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি ছিলেন সাবেক আইজিপি মামুন; তিনিই পরে আবেদন করে রাজসাক্ষী হন এবং ঘটনা বিস্তারিতভাবে আদালতে তুলে ধরেন।

রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর টহল, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বিজিবি মোতায়েন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন–শাটডাউন চলাকালে নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ অভিযানও বাড়ানো হয়েছে।

প্রসিকিউশন মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করে। এর মধ্যে তথ্যসূত্র: ২,০১৮ পৃষ্ঠা জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ: ৪,০০৫ পৃষ্ঠা শহীদদের তালিকার বিবরণ: ২,৭২৪ পৃষ্ঠা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণআন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনী, আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর ক্যাডারদের বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের নির্দেশ দেন। এতে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি আহত ও নির্যাতনের শিকার হয়।