হাবিপ্রবিতে তীব্র পরিবহন সংকট, ১৩টি বাসের মধ্যে ৮টিই অচল


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৫/০৮/২০২৫, ৪:১১ পূর্বাহ্ণ /
হাবিপ্রবিতে তীব্র পরিবহন সংকট, ১৩টি বাসের মধ্যে ৮টিই অচল
7

অনলাইন ডেস্কঃ 

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) পরিবহন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত ১৩টি নিজস্ব বাসের মধ্যে বর্তমানে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে ৮টি। ফলে সচল থাকা মাত্র ৫টি বাস ও ২টি বিআরটিসি দ্বিতল বাস দিয়েই চলছে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াত। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পড়তে হচ্ছে তীব্র ভোগান্তিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ দিনাজপুর শহরের কলেজ মোড়, সুইহারী ও চৌরঙ্গী এলাকার মেস বা বাসায় অবস্থান করছে। ফলে ক্লাসে যাতায়াত, টিউশন ও অন্যান্য কাজে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাসের ওপর নির্ভরশীল।

সচল বাস কম থাকায় প্রতিটি বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে হচ্ছে। বাস ছাড়ার অনেক আগেই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, তাও সিট পাওয়া নিশ্চিত নয়।
হাবিপ্রবির ছাত্রী হাবিবা খাতুন বলেন, “মেয়েদের পক্ষে ধাক্কাধাক্কি করে বাসে ওঠা সম্ভব না। অনেকসময় বাধ্য হয়ে অটোতে যাতায়াত করতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল।”

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত সময়েও অনেকসময় বাস আসে না। বাসের সংখ্যা বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সচল রয়েছে ১১, ১২, ১৭, ১৯, ২০ নম্বর নিজস্ব বাস এবং ২টি বিআরটিসি বাস। অন্যদিকে ৮, ৯, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮ ও ২১ নম্বর বাস বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে রয়েছে।

পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “বর্তমানে আমরা মাত্র ৭টি বাস চালু রাখতে পেরেছি। বাকিগুলো মেরামতের কাজ চলমান আছে। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি, দ্রুতই ১০টি বাস সচল করার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনে আলাদা বাস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে আমাদের সমস্যার একটি বড় কারণ হলো অধিকাংশ বাস ২৫ বছরের বেশি পুরোনো এবং তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পরও আগের মতো কার্যক্ষমতা দিতে পারছে না।”

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “বাসগুলো খোলা জায়গায় থাকে বলে রোদ-বৃষ্টি সরাসরি পড়ে। এতে বাসের আয়ুষ্কাল কমে যায়। তাই একটি নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত বাস ডিপো নির্মাণ এখন খুবই জরুরি।”