
তাজমুল হোসেন, জেলা সংবাদদাতা, বাগেরহাট
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। এতে সৃষ্টি হয় ব্যাপক জনদুর্ভোগ।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার নওয়াপাড়া মোড়ে অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এ অবরোধে অংশ নেন। এ সময় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং মহাসড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবরোধের কারণে বাগেরহাট থেকে খুলনা, পিরোজপুর, বরিশাল ও ঢাকামুখী গোপালগঞ্জ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, “বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। এর প্রতিবাদেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, আগামী রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়কের ফকিরহাট-কাটাখালী-নওয়াপাড়া, মোল্লাহাট-চিতলমারী এবং বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের কচুয়া-সাইনবোর্ড সড়ক অবরোধ করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি এই অবরোধসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের একটি খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটে চারটি আসনের পরিবর্তে তিনটি আসন থাকবে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো।
রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক গুরুত্বের দিক থেকে বাগেরহাটে আসন সংখ্যা কমানো অন্যায্য সিদ্ধান্ত। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এম.এ সালাম বলেন,
“এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; জেলার সম্মান, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমরা বাগেরহাটবাসীর স্বার্থে আন্দোলন করছি।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে গঠিত একটি আসন ভেঙে বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৪ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলনে নেমেছে। আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :