ডিসি অফিস ও নির্বাচন অফিসে তালা, সকাল-সন্ধ্যা হরতালে অচল বাগেরহাট


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৮/০৯/২০২৫, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ /
ডিসি অফিস ও নির্বাচন অফিসে তালা, সকাল-সন্ধ্যা হরতালে অচল বাগেরহাট
53

তাজমুল হোসেন, বাগেরহাট জেলা সংবাদদাতা:

বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রতিবাদে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয় জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে হরতালকারীরা জেলা নির্বাচন অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এরপর মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসানকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না দিয়ে তিনি পাশের ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। একইভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকে শিকল-তালা লাগানো হয় এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হরতালের সময় খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের দশানী, নওয়াপাড়া, কাটাখালি, মোল্লাহাট সেতু, বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফয়লা, মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাছের গুঁড়ি, গাড়ি ও বেঞ্চ ফেলে অবরোধ করা হয়। ফলে জেলা শহর থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ আটকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

অবরোধের কারণে জেলার নদীপথে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। মংলা পোর্ট ও ইপিজেডে কোনো যানবাহন প্রবেশ বা পণ্য ওঠানামা করতে দেখা যায়নি।

জেলা শহর ও উপজেলা সদরগুলোতে দোকানপাট, বাজার, অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। হরতালে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়ে ব্যবসায়ীরাও তাদের দোকানপাট খোলেননি।

দিনভর বিভিন্ন স্থানে হরতাল কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, বিএনপির সদস্যসচিব মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর রহমান আলম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি শেখ মুহাম্মদ ইউনুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল হক রাহাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের। তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও একাত্মতা প্রকাশ করে রাজপথে অবস্থান নেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয় নির্বাচন কমিশন। এ প্রস্তাবের পর থেকেই বাগেরহাটজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। চার আসন বহাল রাখার দাবিতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশ নেন। কিন্তু গত ৪ সেপ্টেম্বর কমিশন শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিন আসনেই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এ সিদ্ধান্তকে বাগেরহাটের গণমানুষের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।