ডিমলায় বন্যার ধকল কাটিয়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৫/১১/২০২৫, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ /
ডিমলায় বন্যার ধকল কাটিয়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন
75

কৃষকের মুখে অম্লান হাসি

মশিয়ার রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:
তিস্তানদীর ভাঙন ও টানা কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পেরিয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এবার আমন ধানে হয়েছে বাম্পার ফলন। মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের দোলা, বাতাসে দুলছে পাকা ধান, ছড়িয়ে পড়ছে নতুন ধানের মনভরানো গন্ধ। দীর্ঘদিনের কষ্ট ভুলে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে অম্লান হাসি; নতুন ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কর্মচাঞ্চল্যে মুখর পুরো এলাকা।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং রোগবালাই প্রায় না থাকায় উৎপাদন হয়েছে আশাতীত। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন ধান কাটার ধুম কেউ কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, আবার কেউ ঘরে নতুন ধান তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় অতিরিক্ত সেচ দিতে হওয়ায় খরচ কিছুটা বেড়েছিল। আবার কয়েক দফা বন্যায় অনেক জমির ফসল নষ্ট হলেও পরে পুনরায় রোপণ করে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে সক্ষম হন। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ধানের মূল্য সন্তোষজনক থাকায় তাঁদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ডিমলায় ২১ হাজার ২১৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখরিবাড়ি, টেপাখরিবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের কৃষকেরা বন্যার ধকল কাটিয়ে এবার পেয়েছেন স্বপ্নের ফলন।

বালাপাড়া ইউনিয়নের সুন্দরখাতা গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৩৭ করেছি। শুরুতে খরচ বেশি ছিল, কিন্তু ফলন ও দাম দুটোই ভালো। এখন মনে হচ্ছে পরিশ্রম সার্থক।”

একই গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, “আগে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি ধান কাটা হতো। এখন আগাম ও হাইব্রিড জাত ব্যবহারে কম সময়ে ভালো ফলন মিলছে। এতে একই জমিতে পরের ফসলও লাগানো যাচ্ছে, আয়ও বাড়ছে।”

গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজারের ধান ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, “বর্তমানে নতুন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই ধানের দাম ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা।”

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন,
“বন্যার ক্ষতি সত্ত্বেও এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। আগাম ও স্বল্পমেয়াদী জাতের চাষ উৎপাদন বাড়িয়েছে। এতে একই জমিতে সরিষা বা আলুর চাষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে যা কৃষিতে বৈচিত্র্য আনবে।”

তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক ও পরামর্শসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সফলতা পুরোপুরি কৃষকদের পরিশ্রম ও সচেতনতার ফল।”

তিস্তাপাড়ের কৃষকদের আশা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থাকলেও যদি এমন ফলন অব্যাহত থাকে, তাহলে ডিমলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এ সোনালি প্রাপ্তি শুধু ফসলের নয়, ডিমলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও এনেছে নতুন আশার আলো।