
নিজস্ব সংবাদদাতা:
নীলফামারীর জলঢাকায় ছুটিতে বাড়ি ফেরা এক সেনা সদস্যকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে রাজনৈতিক দোষারোপ ও বিতর্ক।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর সদস্য মাহমুদ হাসান (৪০) তিন দিনের ছুটিতে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরেন। ওই সময় ফেসবুকের ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কৌশলে ডেকে নেয় তাকে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
পরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে প্রায় ২৫-২৬ জন মিলে মাহমুদ হাসানকে রশি দিয়ে বেঁধে টানা দু’ ঘণ্টা ধরে মারধর ও নির্যাতন করে।
ভুক্তভোগীর ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ওরা আমার ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছিল। টাকা না পেয়ে মেরে ফেলে রাখে। এরা সরকারি জায়গা দখল করে ‘কিশোর গ্যাং অফিস’ বানিয়েছে। এদের অত্যাচারে এলাকায় কেউ শান্তিতে থাকতে পারে না।”
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় সেনা সদস্যকে উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর একটি টিম ও পুলিশ। এ সময় কিশোর গ্যাং লিডার ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি হেলাল উদ্দীন, তার বড় ভাই পল্লি চিকিৎসক সিহাব উদ্দীন, নীলফামারী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সদস্য মেহেদী আল হাসান এবং রাকিব হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকে পুরো জলঢাকা উপজেলায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দোষারোপের ঝড় উঠেছে কেউ বলছেন, অভিযুক্তরা জামায়াত–শিবির ঘরানার; অন্যদিকে বিরোধী দলপন্থিরা বলছেন, ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে ছাত্রদল ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মো. সজ্জাদ হোসেন বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। এখানে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আমরা অপরাধের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
বর্তমানে আহত সেনা সদস্য রংপুর সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :