
আবুল হাশেম, রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর দল শান্তি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। বিএনপি কোনো ধরনের বিবাদ বা সংঘাতের রাজনীতিতে যেতে চায় না। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সঠিক তদন্তের আহ্বান জানানো হবে। প্রয়োজনে বিএনপি সহযোগিতা করবে, তবে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও আইন অনুযায়ী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহীর উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহীর কথা বললেই পদ্মা নদীর কথা আসে। কিন্তু আজ পদ্মা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নেই। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা জরুরি। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেব।’
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্পকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে দেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।
রাজশাহীকে ‘শিক্ষানগরী’ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষিত যুবসমাজ থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। আমরা রাজশাহীর আইটি পার্ককে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করব। পাশাপাশি আম চাষিদের উন্নয়নে আধুনিক হিমাগার নির্মাণসহ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তিনি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে, নাকি ভিন্ন পথে। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য “ফ্যামিলি কার্ড” এবং কৃষকদের জন্য “কৃষি কার্ড” চালু করব।’
নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ বছর পর আজ আপনাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হলো।
সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজশাহীতে এসেছিলাম। এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া এই দেশ গড়ার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের মূলমন্ত্র করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান।
সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হারুন উর রশীদ, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবু সাঈদ চাঁদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা।
দুপুর থেকেই রাজশাহীর মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভাকে ঘিরে পুরো শহরজুড়ে ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ।
আপনার মতামত লিখুন :