মসজিদের ভেতরে জামায়াত নেতাকে মারধর, আ.লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৭/০১/২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ /
মসজিদের ভেতরে জামায়াত নেতাকে মারধর, আ.লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
74

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

নীলফামারীতে জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধ থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন হাসান আলী (২৭)। তিনি মেলাপাঙ্গা গ্রামের মো. আলম হোসেনের ছেলে। হাসান আলী ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত নীলফামারী শহর শাখার সাবেক স্কুল সম্পাদক এবং জামায়াতে ইসলামীর পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে গোপনে পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদের সভাপতি নির্বাচন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হুমকি দেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ বিষয়ে কথা বলায় পরিকল্পিতভাবে হাসান আলীর ওপর হামলা চালানো হয়।”

আহত হাসান আলীর বন্ধু রেজোয়ান কবীর সবুজ বলেন, “হাসান একজন জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একটি মিছিলে সামনের সারিতে থাকার সময় তার শরীরে ১৩০টির বেশি রাবার বুলেট লাগে। এখনও তার শরীরে ত্রিশটির বেশি এবং মাথায় দশটির বেশি রাবার বুলেট রয়েছে। এমন অসুস্থ অবস্থার কথা জেনেও মসজিদের ভেতরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

হাসান আলী তার নিজ ফেসবুক পোস্টে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করে দাবি করেন, অভিযুক্তরা সবাই পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

তিনি বলেন, “মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও আয়-ব্যয়ের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতেই মুসল্লিদের সামনে আমাকে দলবদ্ধভাবে মারধর করা হয়। গলা চেপে ধরা হয় এবং পা ও মাথায় আঘাত করা হয়।”

বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সুস্থ হওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “এ ঘটনায় সরাসরি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই। মসজিদের জামাতে বিভিন্ন মতের মানুষ থাকেন। বয়সে ছোট হওয়ায় হাসানের কিছু বক্তব্য একটি পক্ষের পছন্দ হয়নি। সেখান থেকেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।”

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।”