ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র এখন মরুভূমি, পাথর কোথায় গেল?


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৩/০৮/২০২৫, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ /
ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র এখন মরুভূমি, পাথর কোথায় গেল?
35

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর তীরবর্তী মনোমুগ্ধকর পর্যটনকেন্দ্র “সাদা পাথর” আজ আর আগের মতো নেই। একসময় পাহাড়ি ঝরনার ধারা, স্বচ্ছ নীল পানি আর সাদা পাথরের অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করত। কিন্তু অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ভয়াবহতায় সেই সৌন্দর্য এখন বিলীন-জায়গাটি পরিণত হয়েছে মরুভূমিতে।

নদীর তলদেশ থেকে উৎসমুখ পর্যন্ত বড় বড় পাথর লুট হয়ে গেছে অবাধে। তীরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত, জেগে উঠেছে বালুচর, ভেঙে পড়েছে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্র। নৌকা ভ্রমণে পর্যটকরা এখন নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।

ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক শারমিন আক্তার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আগে এখানে এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে প্রকৃতিকে কেউ খুবলে খেয়েছে, শুধু কঙ্কালটুকু পড়ে আছে। খুবই কষ্ট লাগছে।”

ঢাকার পর্যটক আহমেদ ইমতিয়াজ বলেন, “পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে এসেছিলাম, কিন্তু চারপাশের বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মনটাই বিষণ্ণ হয়ে গেল। যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেত, হয়তো এই সৌন্দর্য বাঁচানো সম্ভব হতো।”

পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ রাশেদ অভিযোগ করে বলেন, “অবৈধ পাথর উত্তোলন ধলাই নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা বলেন, “সাদা পাথর শুধু একটি পর্যটন স্পট নয়, এটি জাতীয় সম্পদ ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। সরকার এটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী বিচার করা হোক এবং অবশিষ্ট সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের শৈথিল্যের সুযোগে পাথরখেকোরা নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে অভিযান হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, “নিয়মিত যৌথবাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চলছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কাজ করছি।”

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন-অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ধলাই নদীর সাদা পাথরের সৌন্দর্য চিরতরে হারিয়ে যাবে, যা ফিরিয়ে আনা আর সম্ভব হবে না।