বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে এক মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ০৪/০৫/২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ /
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে এক মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক
43

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর সংবাদদাতা:

“একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; এর মধ্যে মাঝে মধ্যে বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ, অথচ ধানের দাম কমে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে কিছুই বুঝতে পারছি না।”

কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার জুলগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আসাদুল ইসলাম। বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও স্বস্তি নেই কৃষকের মনে। কঠোর পরিশ্রমে ফলানো সোনালি ধান ঘরে তোলার আগেই বাজারে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন তারা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। এমনকি সরকার নির্ধারিত মূল্যও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতীজুড়ে এখন মাঠভরা পাকা ধান। কিন্তু এই সম্ভাবনার মাঝেই দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য দিতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ, এক মণ ধানের দাম দিয়েও একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মন্ডল বলেন, “ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, সার ও কীটনাশকের খরচ বেড়েছে। এখন দোকানের ধার-দেনা ও ঋণের টাকা শোধ করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।”

কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে ধানের বাজারমূল্য বাড়েনি। ফলে বিনিয়োগের টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। মাঠের কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা না হলে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে তাদের লোকসান পুষিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতীতে প্রায় ১৪ হাজার ৬০৬ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছে, তবে আবহাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলতে। কারণ শিলা বৃষ্টি বা আগাম পানিতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সরকার ঘোষিত ১হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করছি।”