জলঢাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত যুবদল কর্মী গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তেজনা, বিএনপির সড়ক অবরোধ ও সাংবাদিক হেনস্তা


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১২/০৩/২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ /
জলঢাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত যুবদল কর্মী গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তেজনা, বিএনপির সড়ক অবরোধ ও সাংবাদিক হেনস্তা
150

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

নীলফামারীর জলঢাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক যুবদল কর্মীকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আকস্মিক পথসভা করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১১ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা মোড় থেকে জিআর-০৩/০৬ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. হাফিজকে গ্রেপ্তার করে জলঢাকা থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার বগুলাগাড়ি এলাকার মহাসিন আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ও বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মৌখিক আপত্তি জানান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী (কমেট), স্বেচ্ছাসেবক দলের জলঢাকা পৌর যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তোরাব ইমন এবং ওমর ফারুক (ছোট বাবু) সহ প্রায় ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী থানায় গিয়ে আটককৃত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। সে সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম উপস্থিত না থাকায় তারা মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রায় ১৫-২০ মিনিট তারা থানার ভেতরে অবস্থান করেন।

পরে ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেটের নেতৃত্বে প্রায় ৬০-৭০ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আকস্মিক পথসভা করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এ সময় বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক হারুন অর রশিদ ও হাবিবুর রহমান ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে ও সাংবাদিক নয়ন বাধা দিতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।

পথসভায় বক্তারা দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজ যুবদলের একজন কর্মী। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট থাকলে আগে দলীয় নেতাদের অবহিত করে পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও তারা মন্তব্য করেন।

পথসভায় বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী (কমেট), শ্রমিকদলের সভাপতি আমিনুর রহমান, তাঁতিদলের সভাপতি আলমগীর হোসেন, কৃষকদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন, শ্রমিকদলের সেক্রেটারি ইউনুস আলী প্রমুখ।

বক্তারা আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা থানায় গেলে তাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা পথসভা শেষে নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

এবিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম বলেন, ঘটনার সময় আমি থানার বাহিরে অবস্থান করি। তিনি তার ২৫-৩০ জন অনুসারী নিয়ে থানায় আসেন। আমাকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে আসামি কে ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু অনেক দিনের পুরাতন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছেড়ে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি থানায় চিল্লাচিল্লি করে জিরো পয়েন্ট গিয়ে অবস্থান নেন।