আধিপত্য বিস্তার ও বাস কাউন্টার নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৬


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১৬/১০/২০২৫, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ /
আধিপত্য বিস্তার ও বাস কাউন্টার নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৬
52

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা:

লক্ষ্মীপুরে আধিপত্য বিস্তার ও যাত্রীবাহী বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল কাদের, মিজান মোল্লা, ফরহাদ, শুভ, রাকিব, দিপু, রাফি, রাতুল, শিপু, নাঈমসহ মোট ১৬ জন।

গুরুতর আহত জাহাঙ্গীরের মাথায় আঘাত লেগে ফেটে যায়; তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নোয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কাদের ও মিজানকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর জেলা শহরের ঝুমুর ও মটকা মসজিদ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর ১০ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক ও জাহাঙ্গীর। ওই পদ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী শাহী ও জোনাকি পরিবহনের ঝুমুর কাউন্টারে টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। শাহী পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বে ছিলেন পদপ্রার্থী তারেক। পরে জোনাকি পরিবহনের পক্ষের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে মটকা মসজিদ এলাকায় ফের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

জাহাঙ্গীরপন্থী আহত মিজান মোল্লা বলেন, “আমরা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সঙ্গে ঝুমুর এলাকায় যাই। পরে তারেক ও তার অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়।”

ঘটনার পর আহতদের সদর হাসপাতালে দেখতে যান জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম হুমায়ূন ও সাধারণ সম্পাদক রশিদুল হাসান লিংকন।

জেলা যুবদল সভাপতি হুমায়ূন বলেন, “জাহাঙ্গীর ও তারেক দুজনই পৌর ১০ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণার কাজ স্থগিত রয়েছে। তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, “হাসপাতালে আহত ১৬ জন চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে দুজনকে ভর্তি এবং একজনকে নোয়াখালী রেফার করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”