
মাইদুল ইসলাম, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় দুই সন্তানের এক জননীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর ভাই। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। তবে অভিযোগের মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল ক্ষেতুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে মিলন মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে পথে-ঘাটে উত্ত্যক্ত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে তারা তাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৭ জুলাই দুই সন্তানের জননী নাজমিন আক্তার (২৬) তার ছোট বোনের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে টেংগনমারী বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশাযোগে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার দিনই নাজমিন আক্তারের ভাই আবু সাঈদ (২৯) জলঢাকা থানায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আবু সাঈদ বলেন, “আমার বোন কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে আমরা কিছুই জানি না। তার দুটি সন্তান রয়েছে। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে পুলিশ অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম (৫৫) কে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
জলঢাকা থানার তদন্ত কর্মকর্তা কাজল কুমার রায় বলেন, “অভিযোগে শফিকুল ইসলামের নাম থাকায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :