২৯ বছরেও পাকা হয়নি ঘোড়াচুলা স্কুলের ৮২০ ফুট রাস্তা, কাদায় নাকাল শিক্ষার্থীরা


Rastrerkotha প্রকাশের সময় : ১১/০৮/২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ /
২৯ বছরেও পাকা হয়নি ঘোড়াচুলা স্কুলের ৮২০ ফুট রাস্তা, কাদায় নাকাল শিক্ষার্থীরা




নাজিম বকাউল, ফরিদপুর সংবাদদাতাঃ

বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তার ছায়া নামে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। পরিচ্ছন্ন পোশাকে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলের পথে বের হলেও বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই তাদের পেরোতে হয় হাঁটুসম কাদা ও থকথকে পানি। পা পিছলে পড়ে বই-খাতা ভেজা, জামাকাপড় নষ্ট হওয়া কিংবা কাদায় আটকে যাওয়ার ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী।

দীর্ঘ ২৯ বছরেও বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র ৮২০ ফুট রাস্তা পাকা হয়নি। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। এর আগে ২০১১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয় আধুনিক দুইতলা ভবন। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে ছয়জন শিক্ষক পাঠদান করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ও শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি এখনো পড়ে আছে অবহেলায়।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল দাস ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন জানায়, বর্ষা মৌসুমে স্কুলে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। কখনো কাদায় পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়, আবার কখনো বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমন্ত দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যারা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে, তাদের অনেকের জামাকাপড় ভেজা থাকে। এতে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, “বিদ্যালয়ে আসার জন্য ৮২০ ফুট রাস্তা এখনো কাঁচা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে যায়। মেম্বার-চেয়ারম্যানদের বিষয়টি বহুবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।”

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সনৎ কুমার দাস জানান, ১৯৯৭ সালে ফুলেশ্বরী পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির মাধ্যমে খালের পাশ দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি।

মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাবিদ উদ্দীন শেখ বলেন, বিষয়টি সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বিথী বলেন, “বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানানো হলেও বাস্তবে রাস্তাটির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। মাত্র ৮২০ ফুট রাস্তার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

তাদের দাবি, আর প্রতিশ্রুতি নয় দ্রুত রাস্তাটি পাকা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক।